জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুল আলোচিত বিষয় বিশ্বায়ন। যার অর্থ বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও পরিবেশের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগের সমন্বয় সাধন। এই সমন্বয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনোলজিটি হল কম্পিউটার টেকনোলজি। কম্পিউটার টেকনোলজি আমাদের ইন্টারনেটের ব্যবহার নিশ্চিত করে যার মাধ্যমে মুহুর্তের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনের যে কোন জটিল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। ই-কমার্স, ই-বিজনেস, ই-ব্যাংকিং, ই-পুলিশ ব্যবস্থা সম্ভব শুধুমাত্র কম্পিউটার টেকনোলজি উন্নয়নের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কর্মক্ষেত্রে এই কোর্সটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় গুরুকুলে এই কোর্সটি যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

কর্মক্ষেত্র

একমাত্র কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংগণের সকল ক্ষেত্রে পেশার সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো :-ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশেন টেকনোলজি, ব্যাংক, বীমা, সরকারী মেইনটেন্যান্স,  পাওয়ার প্লান্ট, পিডিবি,পল্লী বিদ্যুৎ, ডেসকো, ওয়াসা, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রিনিক্স পন্য সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ , সরকারী ও বেসরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সমূহ সিটি কর্পোরেশন,পৌরসভা , ভোকেশনাল স্কুল , টিটিসি, টিএসসি, সৌর বিদ্যুৎ ,পরমানু গবেষনা কেন্দ্র, বাণিজ্যিক ব্যাংক, শিল্প-কারখানা, গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রি ইত্যাদি সহ আরো অনেক সরকারী/ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরীর সুবিধা রয়েছে।

কোর্স কারিকুলাম

ডিপ্রোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের শিক্ষার্থীরা দৈনিন্দিন জীবনে কম্পিউটারের নানামূখী ব্যাবহার ও ছোট্র ছোট্র প্রোগ্রাম তৈরী,রোবট তৈরী ও নানামূখী আবিস্কার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পায়।এছাড়া কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরী করার ক্ষেত্রে ,কম্পিউটার মেরামত ও কম্পিউটার টাবল শোটিং এর কাজ ও ডাটাবেজ প্রোগ্রাম তৈরী করার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশের কম্পিউটারের বিভিন্ন আবিস্কার সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়। তাত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি শিক্ষাথীর্দের নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস গ্রহণ করা হয় যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মমূখী জ্ঞানলাভ ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষন দেয়া হয় যাতে বর্তমানে পেক্ষাপটের সাথে তাল মিলিয়ে তা নিজিকে প্রতিষ্টিত করতে পারে।

 

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা করা মানেই নিজেকে নৌ পেশায় সম্পৃক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ। এ পেশার সব চাকরিই সৌখিন ও আনন্দময়। সমুদ্রযাত্রা কে না ভালোবাসে। আপনিও পারেন আপনার স্বপ্নের রঙিন ক্যারিয়ার হিসেবে এ সৌখিন পেশাকে বেছে নিতে।

ভর্তির যোগ্যতা: এস.এস.সি কিংবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

কোর্সের মেয়াদ: ৪ বছর।

ক্যারিয়ার সম্ভাবনা

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের ক্যারিয়ার গড়তে অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেমন- স্বল্প খরচে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কাতার, দুবাই ইত্যাদি দেশে চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাও নিতে পারবেন। বাংলাদেশ শিপবিল্ডিং কর্পোরেশন, খুলনা শিপইয়ার্ড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডে রয়েছে চাকরির ব্যাপক চাহিদা। বাংলাদেশ নেভি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি ইত্যাদি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ার রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। দেশী-বিদেশী জাহাজে নাবিকসহ ভালো মানের চাকরি রয়েছে।

কর্মক্ষেত্র ও আয়

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর বেকার থাকা বা কাজ না পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখানে আয়-রোজগারের বিষয়টা প্রতিষ্ঠানভেদে হয়ে থাকে। অনেকটা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। নারায়ণগঞ্জ মেরিন ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ এম আকরাম আলী জানান, একজন ছাত্র পেশাগত জীবনে বিদেশী প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করতে পারবে ও দেশি জাহাজ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় করতে পারে। বিদেশী জাহাজে চাকরিরত অফিসার মাসুদ আহমেদ জানান, এখানে থাকা-খাওয়া ও বেতন সবকিছুই মানসম্মত।